খুলনায় অত্যাধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: রকিবুল ইসলাম বকুল

বাসস

বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:২১ পিএম


খুলনায় অত্যাধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা হবে: রকিবুল ইসলাম বকুল
রকিবুল ইসলাম বকুল। ছবি: সংগৃহীত

খুলনাঞ্চলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার পূনর্ব্যক্ত করেছেন খুলনা-৩ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।     

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান সমস্যা হলো কর্মসংস্থান। কর্মসংস্থানের অভাব দূর করতে হলে পরিকল্পিত ও আধুনিক শিল্পায়নের কোনো বিকল্প নেই। অবহেলিত এই শিল্পাঞ্চলকে পুনরায় কর্মচঞ্চল করে তোলা এবং স্থানীয় যুব সমাজের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই আমার মূল লক্ষ্য।’

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ অঙ্গীকার পূনর্ব্যক্ত করেন। 

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, শিল্পনগরী খুলনার পুরোনো ঐতিহ্য এখানকার মিল ও কলকারখানা। কিন্তু সেসব মিল ও কলকারখানাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। এতে খুলনা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সরকারি পাটকল একের পর এক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলে বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েছে। এর প্রেক্ষিতেই নির্বাচনি প্রচারণায় বন্ধ মিল ও কল-কারখানা চালু ও আধুনিক নগরায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন খুলনা- ৩ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। 

নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার উন্নয়নের জন্য তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বকুল বলেন, খুলনার ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে প্রাণ ফেরাতে এবং বেকারত্ব দূর করতে এখানে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) আদলে একটি অত্যাধুনিক শিল্প নগরী গড়ে তোলা হবে। খুলনার শিল্পাঞ্চল খ্যাত খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ও ব্যক্তি মালিকানাধীন কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘খুলনা-৩ এর সব বাসিন্দাদের দায়িত্ব আমার’-আমার পোস্টারে বা বিভিন্ন বিল বোর্ডে এই স্লোগান ছিল। আমি ছাত্রজীবন থেকে বিশ্বাস করি সবাইকে নিয়ে ভালো থাকা হচ্ছে রাজনৈতিক বিজয়। আমি খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার সব দলের এবং মতের ও ধর্মের মানুষকে একটি ম্যাসেজ দিয়েছিলাম, ‘আমি নির্বাচিত হলে সবার এমপি হবো।’

বকুল বলেন, ‘খুলনার সোনালি অতীত ছিল এই কলকারখানাগুলো। এই অচলাবস্থা কাটাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া জুট মিলসহ সব কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে এসব মিলকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, খুলনার ভৌগোলিক অবস্থান ও মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে এখানে বড় আকারের নতুন বিনিয়োগ আনা সম্ভব। ইপিজেডের আদলে শিল্প নগরী গড়ে তোলা হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা খুলনার প্রতি আকৃষ্ট হবেন। যা পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেবে। নগর জীবনে ফিরে আসবে কর্মচঞ্চলতা।

‘রাজনৈতিক সৌন্দর্য আমার চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবাইকে শিখিয়েছেন। আমি তার আদর্শ ও চিন্তার খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছি এবং তা বাস্তবায়নে নির্বাচনের আগে যে ওয়াদা করেছি তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবো। ভিন্ন মতাদর্শীদের সঠিক প্রস্তাব এবং সমালোচনা গ্রহণ করে একটি আদর্শ বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিতে চাই খুলনার উন্নয়নে আমি সবার বকুল।’

এ ছাড়া দৌলতপুর বিএল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে চেষ্টা করবেন বলে জানান বকুল। বিশেষায়িত আধুনিক মানের হাসপাতাল, অংশীজনদের সাথে নিয়ে খুলনাকে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। তরুণ ও যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ারও আশ্বাস দেন এই নেতা। 

আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল খুলনার খালিশপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম। তিনি খালিশপুর রোটারি স্কুল থেকে প্রাথমিক এবং খালিশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। খুলনা বিএল কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে তিনি ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। ক্রমান্বয়ে তিনি হল কমিটির সহ-সভাপতি (১৯৮৬-৮৭), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক (১৯৮৮-৮৯), ডাকসু নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে ফজলুল হক হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক (১৯৯০-৯১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়াও তিনি পরপর দুই বার (১৯৯৭-৯৮ এবং ১৯৯৮-৯৯) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি তাকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনীত করা হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে রকিবুল ইসলাম বকুল ধানের শীষের প্রতীকে ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট। ৮ হাজার ৮৩৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন রকিবুল ইসলাম বকুল।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission